দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অনলাইন প্রতারণায় ফায়ারবেস প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর গুগলকে শতাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতারকরা ফায়ারবেস ব্যবহার করে বড় ব্যাংক ও সরকারি সেবার নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে মানুষের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।
সরকারি নোটিশ ও বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু আগস্টেই গুগলের ফায়ারবেস প্ল্যাটফর্মে হোস্ট করা অন্তত ৫৭টি ওয়েবসাইট ও ডেটাবেজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আই৪সি)। এসব সাইটের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের ফোন থেকে আর্থিক তথ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে।
আই৪সির পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রতারকরা বৈধ ব্যাংকিং সেবার আদলে অ্যান্ড্রয়েড ম্যালওয়্যার তৈরি করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করছে। নতুন ক্রেডিট কার্ড, পুরস্কার কিংবা ক্রেডিট সীমা বাড়ানোর মতো লোভনীয় অফার দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের এসব অ্যাপ ডাউনলোড করতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।
সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, গুগলকে নির্দিষ্ট লিংকগুলো বন্ধের নির্দেশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট লিংকের বিষয়ে গুগলকেও দায়ী করা হতে পারে। তবে এসব নোটিশে গুগল বা ফায়ারবেসকে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সূত্রটি জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফায়ারবেসকে কেন্দ্র করে গুগলের কাছে কয়েক ডজন নোটিশ পাঠিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। প্রতারকরা গত বছর থেকে অন্যান্য বিনামূল্যের ওয়েবসেবা বাদ দিয়ে ফায়ারবেসের দিকে ঝুঁকেছে। তুলনামূলক সহজলভ্য বিনামূল্যের সুবিধা ও উন্নত ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার সুযোগই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছে ভারত সরকার।
গুগল জানিয়েছে, তাদের সেবার মাধ্যমে ফিশিং, ম্যালওয়্যার ও আর্থিক প্রতারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে এ ধরনের অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আই৪সির পাঠানো ৫৭টি ওয়েবসাইট ও ডেটাবেজ বন্ধের নির্দেশের মধ্যে অন্তত সাতটি ছিল ভারতের বড় ব্যাংকের নামে তৈরি ফিশিং সাইট। এসব সাইটে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, আইসিআইসিআই ব্যাংক ও অ্যাক্সিস ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের আদলে ভুয়া পেজ তৈরি করা হয়েছিল। বাকি সাইটগুলো ব্যবহারকারীদের ফোন থেকে চুরি করা তথ্য, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ও ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড সংগ্রহে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতারণার আরেকটি কৌশলে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি বা পিএম-কিষান প্রকল্পের নাম ব্যবহার করা হচ্ছিল। কৃষকদের দেওয়া এই সরকারি সহায়তার অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হতো। এরপর ওই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য প্রতারকদের নিয়ন্ত্রিত ফায়ারবেস ডেটাবেজে পাঠানো হতো।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের কাছে এ ধরনের ক্ষতিকর অ্যাপ ‘অ্যান্ড্রয়েড গড মোড’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে প্রতারকরা ব্যবহারকারীর ফোনের ওপর প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং ফোনে থাকা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করতে পারে।
ভারতে অনলাইন প্রতারণা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে সাইবার প্রতারণায় প্রায় ২৪০ কোটি ডলার খোয়া গেছে। দেশটির দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাও প্রতারকদের কাছে বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে শুধু ভারতের রিয়েল-টাইম পেমেন্টস ব্যবস্থায় প্রায় ২৪২ বিলিয়ন ডিজিটাল লেনদেন হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/